কিন্তু প্রতিশ্রুতিগুলো
বোধহয় বিকেলের রোদের চেয়েও দ্রুত ম্লান হয়ে যায়। আযানের ধ্বনি পুরোপুরি মিলিয়ে
যাওয়ার আগেই, কিংবা হয়তো সেই দুপুরের কড়া রোদ পশ্চিমের আকাশে সামান্য হেলে পড়ার
আগেই, সে তার পথ বদলে নিল। যে মানুষটা যোহরের আযানের পবিত্রতাকে সাক্ষী রেখে আমার
পাশে ছায়ার মতো থাকার কথা বলেছিল, সে মুহূর্তের মধ্যেই আমাকে একা ফেলে চলে গেল এক
অনন্ত শূন্যতায়। আমি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম সেই একই জায়গায়, সেই একই রোদের
নিচে। আমার মাথার ওপর আকাশটা একই রকম বিশাল ছিল, শুধু আমার পাশে হাঁটার সেই
মানুষটা আর ছিল না। তার চলে যাওয়ার পদধ্বনি যেন আযানের প্রতিধ্বনির চেয়েও ভারী হয়ে
বাজছিল আমার কানে।
মাঝে মাঝে খুব অবাক লাগে ভেবে, মানুষ এতো সহজে, এতো গভীর এক মুহূর্তে
কীভাবে মিথ্যে বলতে পারে? নাকি সেই মুহূর্তের জন্য হলেও তার কথাগুলো নিতান্তই
সত্যি ছিল, যা কেবল সময় আর বাস্তবতার নির্মম ঘূর্ণিতে পড়ে দিক হারিয়েছে? আমার কাছে আজ আর কোনো উত্তর নেই, আর
উত্তরের অপেক্ষাও আমি করি না। শুধু এটুকু জানি, এখন যখনই কোনো অলস দুপুরে
যোহরের আযান আমার কানে ভেসে আসে, আমার বুকের ভেতরটা এক অজানা হাহাকারে হু হু করে
ওঠে। আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই দিনটির কথা, সেই ফেলে যাওয়া মুহূর্তটির কথা,
আর একজোড়া প্রতারক চোখের স্থির দৃষ্টি।
বিশ্বাস জিনিসটা বড় অদ্ভুত এবং ভঙ্গুর। একবার ভেঙে গেলে তা আর কোনোদিন
নিখুঁতভাবে জোড়া লাগে না, বরং তার তীক্ষ্ণ কাঁচের টুকরোগুলো আজীবন বুকের বাঁ পাশে
বিঁধে থাকে। সে আমার সাথে থাকেনি, কিন্তু তার দেওয়া সেই মিথ্যে প্রতিশ্রুতির
অদৃশ্য ভার আমাকে আজও একা একা বয়ে বেড়াতে হয়। যে পবিত্র দুপুর আমাকে চিরকাল একসাথে থাকার এক রঙিন স্বপ্ন
দেখিয়েছিল, সেই একই দুপুর আমাকে শিখিয়ে দিয়ে গেছে চরম একাকিত্বের নিষ্ঠুরতম মানে।
আযান শেষ হয়, মানুষ দলে দলে মসজিদে যায় প্রশান্তির খোঁজে, আর আমি আমার ভাঙা
বিশ্বাসের ধুলোমাখা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকি—একাকী, রিক্ত, এবং চিরতরে প্রতারিত। -
আকাইদ আরিফুল
তারিখঃ
০৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬খ্রি.
